Skip to main content
  বিশ্বজুড়ে ভাইরাল ইংল্যান্ডের এক মসজিদ, কারণটা ব্যতিক্রম   অনলাইন ডেস্ক  অনলাইন ভার্সন  সংগৃহীত ছবি বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে উঠেছে ইংল্যান্ডের ব্র্যাডফোর্ড শহরের একটি মসজিদ। হিটন রোডে অবস্থিত জামিয়া উসমানিয়া মসজিদ আলোচনায় এসেছে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যতিক্রমী এক সামাজিক উদ্যোগের কারণে। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জামাতের পাশাপাশি এই মসজিদে চালু করা হয়েছে প্রবীণ পুরুষদের জন্য পিলাটিস ক্লাস। টিকটক ও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিও ইতিমধ্যে ২০ লাখের বেশি ভিউ পেয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ইতিবাচক মন্তব্যে মসজিদ কর্তৃপক্ষ অভিভূত। অনেকেই বলছেন, একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কীভাবে সামাজিক সুস্থতার কেন্দ্র হতে পারে, ব্র্যাডফোর্ডের এই উদ্যোগ তার উজ্জ্বল উদাহরণ। মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইলিয়াস বিবিসিকে বলেন, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল প্রবীণ পুরুষদের একাকিত্ব দূর করা। তাঁর ভাষায়, মসজিদ কেবল নামাজের জায়গা নয়, এটিকে একটি কমিউনিটি হাবে রূপান্তর করার স্বপ্ন থেকেই এই উদ্যোগ। অনেক বয়স্ক মানুষ সারাদিন ঘরে একা থাকেন, এখানে এসে তাঁরা শরীরচর্চার পাশাপাশি কথ...

কেরালায় ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে মস্তিষ্ক-খেকো অ্যামিবা, নয় মাসে মৃত্যু ১৭

 

 অনলাইন ডেস্ক
 অনলাইন ভার্সন
কেরালায় ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে মস্তিষ্ক-খেকো অ্যামিবা, নয় মাসে মৃত্যু ১৭

ভারতের কেরালা রাজ্যে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে মস্তিষ্ক-খেকো অ্যামিবার দাপট। এই অ্যামিবার আক্রমণে রাজ্যটিতে বিগত নয় মাসে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের।  এর মধ্যে মধ্যে সেপ্টেম্বরেই মারা গেছে সাতজন। 

রাজ্যের কোঝিকোড়, কান্নুপুর এবং মালাপ্পুরমে রোগের দাপট সবচেয়ে বেশি। কোঝিকোড়ে গত মাসেও মারা গেছে তিনজন। তাদের মধ্যে রয়েছে- তিন মাসের শিশু, নয় বছরের কিশোরী এবং ৫২ বছরের নারীও। ২০২৫ সালে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাজ্যটিতে মোট আক্রান্ত হয়েছে ৫২ জন। তাদের মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ ও ১৯ জন নারী। 

কিন্তু এই রোগের উৎস কী ? ভাইরাসের মতো কি এই মস্তিষ্ক-খেকো অ্যামিবাও ছড়িয়ে পড়তে পারে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়? বিষয়টা ভাবাচ্ছে সাধারণ মানুষকে। 

মস্তিষ্ক-খেকো অ্যামিবা আসলে কী?

কোঝিকোড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রবি শঙ্করের মতে, এই অ্যামিবা নাক দিয়ে মস্তিষ্কে পৌঁছায় ।  ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে এই রোগের পরিণতি মৃত্যু। তবে সতর্ক থাকলে এই রোগ প্রতিরোধ করা যেতে পারে। 

কেরালার আবহাওয়া উষ্ণ। বিশেষত জলাশয় থেকেই এই রোগের উৎপত্তি। বৈজ্ঞানিক ভাষায় একে নেগেলেরিয়া ফাওলেরি (Naegleria fowleri)  বলা হয়। ডা. শঙ্করের মতে, অ্যামিবা নিজেই মানুষকে আক্রমণ করে না। তবে যেখানকার পানিতে অ্যামিবা রয়েছে, সেখানে যদি কেউ স্নান করে বা সাঁতার কাটতে গিয়ে নাকের ভিতরে পানিতে ঢুকে যায়, তখন অ্যামিবা নাকের টিস্যু থেকে মস্তিষ্কে পৌঁছায়। সেখানে  মেনিনজাইটিসের মতো রোগের সৃষ্টি করে।   

এই রোগ কতটা বিপজ্জনক?

ডা. শঙ্করের মতে, এটি বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক সংক্রমণগুলোর মধ্যে একটি। সংক্রমণের ১ থেকে ৯ দিনের মধ্যে লক্ষণগুলো দেখা দিতে শুরু করে। প্রাথমিকভাবে, মাথাব্যথা, জ্বর, বমিভাব এবং বমির মতো সাধারণ ফ্লুর লক্ষণ দেখা যায়। তবে শিগগিরই দেখা যায় রোগীর ঘাড় শক্ত হয়ে যায়।  এর পরে নানারকম বিভ্রান্তি দেখা দিতে শুরু করে। খিঁচুনি হতে পারে। রোগী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যায়। যদি সময়মতো চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে পাঁচদিনের মধ্যে মৃত্যু ঘটে। এই  ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত।  

কেরালাতেই মৃত্যু কেন বেশি?

কেরালার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে ৩৬টি মস্তিষ্ক-খেকো অ্যামিবা আক্রমণের কেস নথিভুক্ত হয়েছিল। তাতে নয়জনের মৃত্যু হয়েছিল।  ২০২৫ সালে সংখ্যাটা দ্বিগুণ হয়েছে। এর কারণ হল উষ্ণতা বৃদ্ধি , দূষণ এবং জলাশয়গুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব।  প্রকৃতপক্ষে গিয়েছে, কোঝিকোড় এবং মালাপ্পুরমের পুকুরের পানি খুব নোংরা।  

ডা. শঙ্করের মতে, এই বছর তার হাসপাতালে আসা ১৫ জন রোগীর মধ্যে পাঁচজনই মারা গেছেন। তবে, দুই রোগীর প্রাণ রক্ষা করা গিয়েছে । কারণ তাদের সমস্যাটি মস্তিষ্কে পৌঁছতে পারেনি।  এখন ওই রাজ্যের সরকার পুকুরগুলোর পানি পরীক্ষা করা শুরু করেছে এবং ক্লোরিনেশন শুরু করেছে। 

লক্ষণগুলো চিনতে পারলে প্রতিরোধ সম্ভব

সাঁতার কাটার পর যদি  মাথাব্যথা, জ্বর বা ঘাড়ে ব্যথা হয়, তাহলে অবিলম্বে  কোনও ডাক্তারের  পরামর্শ নিন।  ডা. শঙ্করের মতে, এই রোগে স্নায়ুবিক সমস্যা দ্রুত দেখা দেয়। এটি সিএসএফ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা যেতে পারে, তবে রোগটি হতে না দেওয়াই সবথেকে ভাল। এই সময়  সাঁতার কাটা এড়িয়ে চলুন।  নাকের ক্লিপ ব্যবহার করুন যাতে পানি নাকে না যায়। ডাইভিং করার সময় আপনার নাক বন্ধ রাখুন। যদি সম্ভব হয় নাক পরিষ্কার করার জন্য জীবাণুমুক্ত উপদান বা ফুটানো পানি ব্যবহার করুন। 

সূত্র: গালফ নিউজ, এবিপি আনন্দ

Comments

Popular posts from this blog

  রাজধানীতে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় সেই গৃহকর্মী গ্রেফতার   নিজস্ব প্রতিবেদক  অনলাইন ভার্সন  গৃহকর্মী আয়শা / সংগৃহীত ছবি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জোড়াখুনের ঘটনায় জড়িত গৃহকর্মী আয়েশাকে ঝালকাঠি থেকে গ্রেফতার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। বুধবার দুপুরে সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।  এর আগে, সোমবার লায়লা ফিরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজকে (১৫) হত্যা করে পালিয়ে যান কথিত গৃহকর্মী আয়েশা।  এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই নিহত লায়লা ফিরোজের স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে গৃহকর্মীকে অভিযুক্ত করে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।   মামলার বাদী আজিজুল ইসলাম উত্তরার সানবিমস স্কুলের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক। স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে মোহাম্মদপুরের ওই বাসায় প্রায় ১৩ বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। তাদের গ্রামের বাড়ি নাটোরে। নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছিলেন, গৃহকর্মী আয়েশা মাত্র চার দিন আগে কাজ শুরু করেছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সেদিন সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে তিনি বোরকা পরে লিফটে উঠে সপ্তম তলায় যান। পরে সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে মুখে মাস্ক, কাঁধে একটি ব্যাগ এবং...
বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ এশিয়া কাপ ফাইনালের মিশনে আজ ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ   স্পোর্টস ডেস্ক  অনলাইন ভার্সন  ছবি: ক্রিকইনফো এশিয়া কাপের সুপার ফোরে আজ ফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ। দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হলেও, কাগজে-কলমে এবং পরিসংখ্যানে অনেকটাই এগিয়ে আছে টিম ইন্ডিয়া। অতীতের ফলাফল বলছে, এই দ্বৈরথে একতরফা আধিপত্য দেখিয়ে এসেছে ভারত। তবে মাঠের লড়াই যে সব সময় পরিসংখ্যান মেনে চলে না, সেটাও প্রমাণের সুযোগ থাকছে বাংলাদেশের সামনে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এখনও পর্যন্ত ১৭ বার মুখোমুখি হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশ। তার মধ্যে ১৬ বারই জিতেছে ভারত। শুধু একটি ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেয়েছে টাইগাররা। তাও বছর ছয়েক আগে। শেষবার দুই দল টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হয়েছিল ২০২৪ সালে হায়দরাবাদে। সেই ম্যাচে ১৩৩ রানের বিশাল জয় পায় ভারত। এশিয়া কাপে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট মিলিয়ে মোট ১৫ বার মুখোমুখি হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ। এর মধ্যে ১৩ বার জিতেছে ভারত। অপরদিকে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে মাত্র ২ ম্যাচে। পরিসংখ্যান যদিও ভারতের পক্ষেই কথা বলছে, তবে বাংলাদেশ একেবারেই যে হার মানছে না, তার প্রমাণ ২০২৩ সালের ও...

মহানবী (সা.) যেভাবে মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ

    আপডেট: ০৭:৫২, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫     জাওয়াদ মাহবুব  অনলাইন ভার্সন মুহাম্মদ (সা.) এমন একসময় পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন, যখন পৃথিবী ঐশী আলো ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। ফলে পার্থিব জীবনের সব আয়োজন বিদ্যমান থাকলেও সাম্য, মানবিকতা, মনুষ্যত্ব ও কল্যাণকামিতার মতো গুণাবলি হারিয়ে গিয়েছিল। মানুষরূপী মানুষ থাকলেও পৃথিবীতে মনুষ্যত্ব ছিল না, মানুষ মানুষের কাছে নিরাপদ ছিল না। ঐতিহাসিকরা এই সময়কে আইয়ামে জাহিলিয়্যাত বা অন্ধকার যুগ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মহানবী (সা.) তখন মানবজাতির জন্য মহাত্রাতা হিসেবে আগমন করেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি তো আপনাকে বিশ্বজগতের প্রতি শুধু রহমতরূপেই প্রেরণ করেছি।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ১০৭) উল্লিখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেন, শুধু নবী হিসেবে মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনই নয়, বরং সত্ত্বাগতভাবে তিনি নিজেও বিশ্বজগতের জন্য রহমত ছিলেন। রহমত শব্দের আভিধানিক অর্থ দয়া ও অনুগ্রহ। পরিভাষায় রহমত বলা হয়, অন্যের প্রতি অন্তরের এমন মায়া, ভালোবাসা ও ভাব, যা অনুগ্রহ করতে উৎসাহিত করে। সুতরাং নবীজি (সা.)-এর রহমত হওয়ার অর্থ হলো বিশ্বজগতের প্রতি তাঁর কল্যাণকামিতা...