Skip to main content
  বিশ্বজুড়ে ভাইরাল ইংল্যান্ডের এক মসজিদ, কারণটা ব্যতিক্রম   অনলাইন ডেস্ক  অনলাইন ভার্সন  সংগৃহীত ছবি বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে উঠেছে ইংল্যান্ডের ব্র্যাডফোর্ড শহরের একটি মসজিদ। হিটন রোডে অবস্থিত জামিয়া উসমানিয়া মসজিদ আলোচনায় এসেছে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যতিক্রমী এক সামাজিক উদ্যোগের কারণে। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জামাতের পাশাপাশি এই মসজিদে চালু করা হয়েছে প্রবীণ পুরুষদের জন্য পিলাটিস ক্লাস। টিকটক ও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিও ইতিমধ্যে ২০ লাখের বেশি ভিউ পেয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ইতিবাচক মন্তব্যে মসজিদ কর্তৃপক্ষ অভিভূত। অনেকেই বলছেন, একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কীভাবে সামাজিক সুস্থতার কেন্দ্র হতে পারে, ব্র্যাডফোর্ডের এই উদ্যোগ তার উজ্জ্বল উদাহরণ। মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইলিয়াস বিবিসিকে বলেন, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল প্রবীণ পুরুষদের একাকিত্ব দূর করা। তাঁর ভাষায়, মসজিদ কেবল নামাজের জায়গা নয়, এটিকে একটি কমিউনিটি হাবে রূপান্তর করার স্বপ্ন থেকেই এই উদ্যোগ। অনেক বয়স্ক মানুষ সারাদিন ঘরে একা থাকেন, এখানে এসে তাঁরা শরীরচর্চার পাশাপাশি কথ...

  বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫


সোনালি যুগে খলিফা নির্বাচন পদ্ধতি

 মুফতি উবায়দুল হক খান
 অনলাইন ভার্সন
সোনালি যুগে খলিফা নির্বাচন পদ্ধতি

ইসলামের ইতিহাসে ‘সোনালি যুগ’ বলতে মূলত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর চার খলিফার শাসনকালকে (খুলাফায়ে রাশেদা) বোঝানো হয়। প্রায় ৩০ বছরব্যাপী এই সময়কালকে ইসলামের স্বর্ণযুগ বলা হয়। কারণ এই সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় ন্যায়, সত্য, সাম্য, শুরা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও শরিয়াভিত্তিক ব্যবস্থা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছিল; বিশেষ করে খলিফা নির্বাচনের পদ্ধতি ছিল অনন্য ও শিক্ষণীয়। কোনো বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র, সামরিক অভ্যুত্থান বা একনায়কতন্ত্র ছিল না; বরং ছিল শুরা, পরামর্শ, উম্মাহর মতামত ও যোগ্যতার ভিত্তিতে খলিফা নির্বাচন। 

কোরআন ও হাদিসে নেতৃত্ব নির্বাচনের মূলনীতি
ইসলামে নেতৃত্ব (ইমামত বা খিলাফত) একটি আমানত। কোরআনে বলা হয়েছে—‘আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন, তোমরা আমানত তাদের কাছে পৌঁছে দাও, যারা এর হকদার।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৫৮)

এ আয়াতের আলোকে নেতৃত্ব বা শাসনক্ষমতা এমন ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত করতে হবে, যে প্রকৃত যোগ্য ও আমানতদার।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন দায়িত্ব অযোগ্য ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হবে, তখন কিয়ামতের প্রতীক্ষা করো।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪৯৬)

অতএব, নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, তাকওয়া, জ্ঞান, ন্যায়বিচার ও দক্ষতা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।

 প্রথম খলিফা : আবু বকর (রা.)-এর নির্বাচন
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর মুসলমানরা এক বিরাট শূন্যতার মধ্যে পড়ে যায়। তখন সাহাবারা সাকিফা বানু সাইদাহ এলাকায় সমবেত হন। আনসাররা প্রস্তাব দেন—একজন নেতা আনসার থেকে, একজন নেতা মুহাজির থেকে করা হোক।

এ সময় উমর (রা.) ও আবু উবাইদাহ (রা.) আবু বকর (রা.)-এর হাত ধরে বলেন, ‘আমাদের মধ্যে রাসুল (সা.) ইমাম বানিয়েছিলেন তাঁকেই। সুতরাং আমরা তাঁকে নেতা মানতে সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত।’ আনসাররাও ঐকমত্যে রাজি হন। সবার সম্মতিতে আবু বকর (রা.) প্রথম খলিফা নির্বাচিত হন।

পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য
এক. শুরা বা পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত।
দুই. মুহাজির ও আনসারদের সর্বসম্মতি।
তিন. যোগ্যতা ও রাসুল (সা.)-এর নৈকট্যের ভিত্তিতে নির্বাচন। 

দ্বিতীয় খলিফা : উমর ফারুক (রা.)-এর নির্বাচন
খলিফা আবু বকর (রা.) মৃত্যুশয্যায় উম্মাহর জন্য একজন উত্তরসূরি নির্ধারণ করার প্রয়োজন অনুভব করেন। তিনি উম্মাহর মতামত নিয়ে, শীর্ষ সাহাবিদের সঙ্গে পরামর্শ করে উমর (রা.)-কে মনোনীত করেন। তবে এটি ছিল নিছক মনোনয়ন, চাপিয়ে দেওয়া নয়। আবু বকর (রা.) বলেন, ‘আমি তোমাদের জন্য উমর ইবনুল খাত্তাবকে মনোনীত করছি। যদি তোমরা তাকে গ্রহণ করো, তবে সে-ই তোমাদের জন্য উত্তম।’ মুসলমানরা সর্বসম্মতভাবে উমর (রা.)-কে খলিফা হিসেবে গ্রহণ করে।

পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য
এক. পূর্ববর্তী খলিফার মনোনয়ন।
দুই. শীর্ষ সাহাবিদের সঙ্গে পরামর্শ।
তিন. উম্মাহর সর্বসম্মতি ও বায়াত।

তৃতীয় খলিফা : উসমান গনি (রা.)-এর নির্বাচন
উমর (রা.) ইন্তেকালের আগে খলিফা নির্বাচনের জন্য ছয়জন বিশিষ্ট সাহাবির একটি ‘শুরা পরিষদ’ গঠন করেন। সদস্যরা ছিলেন—

এক. উসমান ইবনে আফফান (রা.)
দুই. আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)
তিন. আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা.)
চার. সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)
পাঁচ. জুবাইর ইবনে আওয়াম (রা.)
ছয়. তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রা.)।

এ কমিটি পরামর্শ করে সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা.) মুসলমানদের মতামত সংগ্রহ করেন। বেশির ভাগের মত ছিল—উসমান (রা.)। সুতরাং সর্বসম্মতিক্রমে তিনি তৃতীয় খলিফা নির্বাচিত হন।

পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য
এক. নির্বাচনী পরিষদ (শুরা)।
দুই. মুসলমানদের মতামত গ্রহণ।
তিন. সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে খলিফা নির্বাচন।

চতুর্থ খলিফা : আলী (রা.)-এর নির্বাচন
উসমান (রা.)-এর শাহাদাতের পর মুসলমানরা গভীর সংকটে পড়ে। তখন মদিনার জনগণ ও সাহাবিরা আলী (রা.)-কে খলিফা হতে অনুরোধ করেন। তিনি প্রথমে অস্বীকৃতি জানান; কিন্তু উম্মাহর চাপ ও ঐকমত্যে অবশেষে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য
এক. উম্মাহর স্বতঃস্ফূর্ত দাবি।
দুই. সাধারণ জনগণ ও সাহাবিদের সম্মিলিত বায়াত।
তিন. সংকটকালে ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন।

সোনালি যুগে খলিফা নির্বাচনের মূলনীতি
এক. শুরা ও পরামর্শ : প্রতিটি নির্বাচনে শীর্ষ সাহাবিদের পরামর্শ ও সাধারণ মুসলমানদের মতামত গুরুত্ব পেয়েছে।
দুই. যোগ্যতার ভিত্তি : বংশ বা সম্পদের ভিত্তিতে নয়; তাকওয়া, জ্ঞান, নেতৃত্বগুণ ছিল মূল শর্ত।
তিন. সর্বসম্মতি বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মত : আবু বকর (রা.), উসমান (রা.) ও আলী (রা.)-এর ক্ষেত্রে দেখা যায়—সাধারণ মুসলিম জনতার সমর্থন অপরিহার্য ছিল।
চার. অমানতদারি ও দায়িত্ববোধ : নেতৃত্ব ছিল সেবা, শাসন নয়; দায়িত্ব, সুবিধা নয়।

সোনালি যুগের নির্বাচন পদ্ধতির শিক্ষণীয় দিক
এক. গণতান্ত্রিক চেতনা : যদিও আধুনিক অর্থে গণতন্ত্র ছিল না, তবে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ছিল সুস্পষ্ট।
দুই. ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর : সশস্ত্র বল প্রয়োগে নয়, বরং পরামর্শ ও ঐকমত্যে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে।
তিন. ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্ব : প্রত্যেক খলিফা ছিলেন ন্যায়পরায়ণ, আমানতদার ও যোগ্য নেতা।
চার. দলীয় বিভাজনহীনতা : শুরুতে মুসলিম সমাজ এক কাতারে থেকে নেতৃত্ব গ্রহণ করেছে, যদিও পরে রাজনৈতিক ভিন্নমত দেখা দেয়।
পাঁচ. জনস্বার্থ প্রাধান্য : প্রতিটি নির্বাচনেই মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ ছিল মুখ্য বিবেচ্য।

ইসলামের শিক্ষা
সোনালি যুগের খলিফা নির্বাচন পদ্ধতি ছিল মানব ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এখানে রাজতন্ত্র বা বংশানুক্রমিক শাসন ছিল না; ছিল না একনায়কতন্ত্র বা ক্ষমতার জবরদখল। বরং ছিল পরামর্শ, যোগ্যতার মর্যাদা, জনগণের মতামত এবং ন্যায়নিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য। ইসলামের মূল শিক্ষা হলো—নেতৃত্ব একটি আমানত, যা শুধু যোগ্য ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত হতে হবে।

আজকের পৃথিবীতে রাজনৈতিক অস্থিরতা, স্বার্থান্বেষী নেতৃত্ব ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব দূর করতে চাইলে সোনালি যুগের খলিফা নির্বাচন পদ্ধতি থেকে শিক্ষা নেওয়া অপরিহার্য।

পরিশেষে বলা যায়, খলিফা নির্বাচন পদ্ধতির এই ইতিহাস শুধু মুসলমানদের জন্য নয়; বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য একটি দিকনির্দেশনা, যা ন্যায়, সাম্য ও মানবকল্যাণের আদর্শ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।

Comments

Popular posts from this blog

  রাজধানীতে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় সেই গৃহকর্মী গ্রেফতার   নিজস্ব প্রতিবেদক  অনলাইন ভার্সন  গৃহকর্মী আয়শা / সংগৃহীত ছবি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জোড়াখুনের ঘটনায় জড়িত গৃহকর্মী আয়েশাকে ঝালকাঠি থেকে গ্রেফতার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। বুধবার দুপুরে সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।  এর আগে, সোমবার লায়লা ফিরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজকে (১৫) হত্যা করে পালিয়ে যান কথিত গৃহকর্মী আয়েশা।  এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই নিহত লায়লা ফিরোজের স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে গৃহকর্মীকে অভিযুক্ত করে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।   মামলার বাদী আজিজুল ইসলাম উত্তরার সানবিমস স্কুলের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক। স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে মোহাম্মদপুরের ওই বাসায় প্রায় ১৩ বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। তাদের গ্রামের বাড়ি নাটোরে। নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছিলেন, গৃহকর্মী আয়েশা মাত্র চার দিন আগে কাজ শুরু করেছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সেদিন সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে তিনি বোরকা পরে লিফটে উঠে সপ্তম তলায় যান। পরে সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে মুখে মাস্ক, কাঁধে একটি ব্যাগ এবং...
বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ এশিয়া কাপ ফাইনালের মিশনে আজ ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ   স্পোর্টস ডেস্ক  অনলাইন ভার্সন  ছবি: ক্রিকইনফো এশিয়া কাপের সুপার ফোরে আজ ফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ। দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হলেও, কাগজে-কলমে এবং পরিসংখ্যানে অনেকটাই এগিয়ে আছে টিম ইন্ডিয়া। অতীতের ফলাফল বলছে, এই দ্বৈরথে একতরফা আধিপত্য দেখিয়ে এসেছে ভারত। তবে মাঠের লড়াই যে সব সময় পরিসংখ্যান মেনে চলে না, সেটাও প্রমাণের সুযোগ থাকছে বাংলাদেশের সামনে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এখনও পর্যন্ত ১৭ বার মুখোমুখি হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশ। তার মধ্যে ১৬ বারই জিতেছে ভারত। শুধু একটি ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেয়েছে টাইগাররা। তাও বছর ছয়েক আগে। শেষবার দুই দল টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হয়েছিল ২০২৪ সালে হায়দরাবাদে। সেই ম্যাচে ১৩৩ রানের বিশাল জয় পায় ভারত। এশিয়া কাপে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট মিলিয়ে মোট ১৫ বার মুখোমুখি হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ। এর মধ্যে ১৩ বার জিতেছে ভারত। অপরদিকে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে মাত্র ২ ম্যাচে। পরিসংখ্যান যদিও ভারতের পক্ষেই কথা বলছে, তবে বাংলাদেশ একেবারেই যে হার মানছে না, তার প্রমাণ ২০২৩ সালের ও...

মহানবী (সা.) যেভাবে মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ

    আপডেট: ০৭:৫২, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫     জাওয়াদ মাহবুব  অনলাইন ভার্সন মুহাম্মদ (সা.) এমন একসময় পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন, যখন পৃথিবী ঐশী আলো ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। ফলে পার্থিব জীবনের সব আয়োজন বিদ্যমান থাকলেও সাম্য, মানবিকতা, মনুষ্যত্ব ও কল্যাণকামিতার মতো গুণাবলি হারিয়ে গিয়েছিল। মানুষরূপী মানুষ থাকলেও পৃথিবীতে মনুষ্যত্ব ছিল না, মানুষ মানুষের কাছে নিরাপদ ছিল না। ঐতিহাসিকরা এই সময়কে আইয়ামে জাহিলিয়্যাত বা অন্ধকার যুগ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মহানবী (সা.) তখন মানবজাতির জন্য মহাত্রাতা হিসেবে আগমন করেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি তো আপনাকে বিশ্বজগতের প্রতি শুধু রহমতরূপেই প্রেরণ করেছি।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ১০৭) উল্লিখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেন, শুধু নবী হিসেবে মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনই নয়, বরং সত্ত্বাগতভাবে তিনি নিজেও বিশ্বজগতের জন্য রহমত ছিলেন। রহমত শব্দের আভিধানিক অর্থ দয়া ও অনুগ্রহ। পরিভাষায় রহমত বলা হয়, অন্যের প্রতি অন্তরের এমন মায়া, ভালোবাসা ও ভাব, যা অনুগ্রহ করতে উৎসাহিত করে। সুতরাং নবীজি (সা.)-এর রহমত হওয়ার অর্থ হলো বিশ্বজগতের প্রতি তাঁর কল্যাণকামিতা...