Skip to main content
  বিশ্বজুড়ে ভাইরাল ইংল্যান্ডের এক মসজিদ, কারণটা ব্যতিক্রম   অনলাইন ডেস্ক  অনলাইন ভার্সন  সংগৃহীত ছবি বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে উঠেছে ইংল্যান্ডের ব্র্যাডফোর্ড শহরের একটি মসজিদ। হিটন রোডে অবস্থিত জামিয়া উসমানিয়া মসজিদ আলোচনায় এসেছে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যতিক্রমী এক সামাজিক উদ্যোগের কারণে। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জামাতের পাশাপাশি এই মসজিদে চালু করা হয়েছে প্রবীণ পুরুষদের জন্য পিলাটিস ক্লাস। টিকটক ও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিও ইতিমধ্যে ২০ লাখের বেশি ভিউ পেয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ইতিবাচক মন্তব্যে মসজিদ কর্তৃপক্ষ অভিভূত। অনেকেই বলছেন, একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কীভাবে সামাজিক সুস্থতার কেন্দ্র হতে পারে, ব্র্যাডফোর্ডের এই উদ্যোগ তার উজ্জ্বল উদাহরণ। মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইলিয়াস বিবিসিকে বলেন, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল প্রবীণ পুরুষদের একাকিত্ব দূর করা। তাঁর ভাষায়, মসজিদ কেবল নামাজের জায়গা নয়, এটিকে একটি কমিউনিটি হাবে রূপান্তর করার স্বপ্ন থেকেই এই উদ্যোগ। অনেক বয়স্ক মানুষ সারাদিন ঘরে একা থাকেন, এখানে এসে তাঁরা শরীরচর্চার পাশাপাশি কথ...

নিয়ম কানুনের কড়াকড়িতে সিঙ্গাপুর ছাড়ছেন ধনী চীনারা

  প্রকাশ: ১৩:৫৮, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

 অনলাইন ডেস্ক
 অনলাইন ভার্সন
নিয়মকানুনের কড়াকড়িতে সিঙ্গাপুর ছাড়ছেন ধনী চীনারা

একসময় চীনের মূল ভূখণ্ডের ধনী পরিবারগুলোর কাছে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত ছিল সিঙ্গাপুর। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা নিয়মকানুনের বেড়াজালে পড়ে এই অতিধনীরা সিঙ্গাপুর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন হংকং, দুবাই, জাপানসহ বিভিন্ন গন্তব্যে। এর ফলে একসময় বিপুল অর্থ সিঙ্গাপুরে প্রবাহিত হলেও এখন তা উল্টো পথে যাচ্ছে।

সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের পর চীনা ধনীদের কাছে সিঙ্গাপুরের আকর্ষণ বেড়ে যায়। তখন হংকংয়ে ব্যাপক গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন শুরু হয়, বেইজিং কঠোর দমননীতি চালু করে এবং ২০২০ সালে কার্যকর হয় জাতীয় নিরাপত্তা আইন। এসব ঘটনায় অনেক ধনী পরিবার হংকং থেকে সরে গিয়ে সিঙ্গাপুরে নিরাপদ দূরত্ব খুঁজতে থাকে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, স্বাধীন আদালত, পারিবারিক অফিস পরিচালনার অনুকূল পরিবেশ এবং ম্যান্ডারিন ভাষার প্রচলন সিঙ্গাপুরকে তাদের কাছে স্বাভাবিক গন্তব্য করে তোলে।

কিন্তু ২০২৩ সালে ফুজিয়ান অঞ্চল থেকে আসা ধনীদের ৩ বিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার (২.৩ বিলিয়ন ডলার) অর্থপাচারের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে, যা ‘ফুজিয়ান মামলা’ নামে পরিচিত। এর পর থেকে সিঙ্গাপুরের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও ব্যাংকগুলো কঠোর পদক্ষেপ নেয়, বাড়ানো হয় নিয়মকানুন ও যাচাই প্রক্রিয়া।

বেফ্রন্ট ল’-এর পরিচালক রায়ান লিন বলেন, “ফুজিয়ান খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই অনেক ধনী চীনা চলে গেলেন। সত্যি বলতে প্রায় সবাই। কেউ হংকং, কেউ মধ্যপ্রাচ্য, কেউ বা জাপানে। এরপর থেকে প্রস্থান আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।”

লিনের দাবি, এখন মূল ভূখণ্ডের ক্লায়েন্টদের আবেদন ২০২২ সালের তুলনায় ৫০% কমে গেছে। বিশেষ করে নতুন নিয়ম ও কমপ্লায়েন্স চেক কার্যকর হওয়ার পর থেকে।

সিঙ্গাপুরের আর্থিক কর্তৃপক্ষ (এমএএস) বিশেষ করে ক্রিপ্টো খাতে কঠোরতা জোরদার করেছে। ২০২৫ সালে চালু হওয়া নিয়ম অনুযায়ী, স্থানীয় নয় এমন গ্রাহকদের জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি, স্টেবলকয়েন বা টোকেনাইজড ইকুইটি অফার করলে প্ল্যাটফর্মগুলোকে লাইসেন্স নিতে হবে। কিন্তু লাইসেন্স পাওয়া কঠিন, পাশাপাশি শর্তও কড়া—ন্যূনতম ২.৫ লাখ সিঙ্গাপুর ডলারের মূলধন, কঠোর মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত ঝুঁকি ও আচরণবিধির নিয়ম মানতে হবে।

লিন বলেন, “ক্রিপ্টো খাতের সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন, এই আইনের কারণে সবাই চলে গেছেন। সিঙ্গাপুরে লাইসেন্স পাওয়া আগেই কঠিন ছিল, নতুন নিয়মে তা প্রায় অসম্ভব।”

তবে এমএএস জানিয়েছে, অর্থপাচার মামলার কারণে তারা মানদণ্ড পরিবর্তন করেনি। এমএএস-এর এক মুখপাত্র বলেন, “সিঙ্গাপুর বৈধ সম্পদকে স্বাগত জানায়। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা আরও কার্যকর ও দক্ষ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সহায়তা করছি।”

কর্পোরেট সার্ভিস ফার্ম জেঙ্গার প্রতিষ্ঠাতা আইরিস সু জানান, ফুজিয়ান মামলা ও ২০২৪ সালে থ্রি অ্যারোস ক্যাপিটাল এবং এফটিএক্স-এর মতো ক্রিপ্টো কোম্পানির পতনের পর ব্যাংক খাতে ব্যাপক ‘ক্লিন-আপ’ চালানো হয়। নতুন করে কেওয়াইসি চেক, পারিবারিক অফিস আবেদন পুনঃপরীক্ষা, এমনকি অ্যাকাউন্ট বন্ধ পর্যন্ত করা হয়। এতে ধনী চীনারা অচলাবস্থায় পড়ে জাপান, হংকং ও দুবাইয়ে অর্থ সরিয়ে নিতে শুরু করেন।

অন্যদিকে স্থায়ী বসবাস বা পারিবারিক অফিসের আবেদনেও ব্যাপক ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের কারণে অনেক ধনী পরিবার অস্বস্তি বোধ করছেন।

হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সিঙ্গাপুরে সম্পদ অভিবাসন ব্যাপকভাবে কমবে। এ বছর নেট ইনফ্লো হবে মাত্র ১,৬০০ মিলিয়নিয়ার—২০২৪ সালের প্রত্যাশিত ৩,৫০০ এর অর্ধেকেরও কম।

ক্লিক ভেঞ্চার্সের প্রতিষ্ঠাতা কারম্যান চ্যান জানান, কেওয়াইসি প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়া ও স্থানীয় কর্মী নিয়োগের বাধ্যবাধকতার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী হংকংয়ে ফিরে যাচ্ছেন। চ্যানের মতে, হংকংয়ের কর ছাড় ও নতুন বিনিয়োগ স্কিমও ধনীদের আকর্ষণ করছে।

এদিকে পান্ডান ইনভেস্টমেন্টসের পার্টনার ক্রিস্টোফার আও বলেন, জীবনধারার পার্থক্যও এক কারণ। তরুণ ধনীরা রাতজাগা বিনোদন পছন্দ করেন, যা সিঙ্গাপুরে সহজ নয়। ফলে অনেকেই হংকং ও দুবাই বেছে নিচ্ছেন।

হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের গ্রুপ প্রধান ডমিনিক ভোলেক মনে করেন, কঠোর নিয়ম, বর্ধিত নজরদারি ও সামাজিক পরিবর্তনের কারণে ধনীরা বিকল্প খুঁজছেন।

জেঙ্গার আইরিস সু বলেন, “সিঙ্গাপুর এতদিন ছিল এক ‘বুমিং হাব’। এখন এটি শীতল হচ্ছে, ক্লিন-আপ করছে। গত কয়েক বছর সিঙ্গাপুরের জন্য ভালো সময় ছিল। এখন কিছু সংশোধন হচ্ছে, তবে এটিকে স্বাভাবিক বলা যায়।”

Comments

Popular posts from this blog

  রাজধানীতে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় সেই গৃহকর্মী গ্রেফতার   নিজস্ব প্রতিবেদক  অনলাইন ভার্সন  গৃহকর্মী আয়শা / সংগৃহীত ছবি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জোড়াখুনের ঘটনায় জড়িত গৃহকর্মী আয়েশাকে ঝালকাঠি থেকে গ্রেফতার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। বুধবার দুপুরে সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।  এর আগে, সোমবার লায়লা ফিরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজকে (১৫) হত্যা করে পালিয়ে যান কথিত গৃহকর্মী আয়েশা।  এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই নিহত লায়লা ফিরোজের স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে গৃহকর্মীকে অভিযুক্ত করে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।   মামলার বাদী আজিজুল ইসলাম উত্তরার সানবিমস স্কুলের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক। স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে মোহাম্মদপুরের ওই বাসায় প্রায় ১৩ বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। তাদের গ্রামের বাড়ি নাটোরে। নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছিলেন, গৃহকর্মী আয়েশা মাত্র চার দিন আগে কাজ শুরু করেছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সেদিন সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে তিনি বোরকা পরে লিফটে উঠে সপ্তম তলায় যান। পরে সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে মুখে মাস্ক, কাঁধে একটি ব্যাগ এবং...
বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ এশিয়া কাপ ফাইনালের মিশনে আজ ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ   স্পোর্টস ডেস্ক  অনলাইন ভার্সন  ছবি: ক্রিকইনফো এশিয়া কাপের সুপার ফোরে আজ ফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ। দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হলেও, কাগজে-কলমে এবং পরিসংখ্যানে অনেকটাই এগিয়ে আছে টিম ইন্ডিয়া। অতীতের ফলাফল বলছে, এই দ্বৈরথে একতরফা আধিপত্য দেখিয়ে এসেছে ভারত। তবে মাঠের লড়াই যে সব সময় পরিসংখ্যান মেনে চলে না, সেটাও প্রমাণের সুযোগ থাকছে বাংলাদেশের সামনে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এখনও পর্যন্ত ১৭ বার মুখোমুখি হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশ। তার মধ্যে ১৬ বারই জিতেছে ভারত। শুধু একটি ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেয়েছে টাইগাররা। তাও বছর ছয়েক আগে। শেষবার দুই দল টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হয়েছিল ২০২৪ সালে হায়দরাবাদে। সেই ম্যাচে ১৩৩ রানের বিশাল জয় পায় ভারত। এশিয়া কাপে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট মিলিয়ে মোট ১৫ বার মুখোমুখি হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ। এর মধ্যে ১৩ বার জিতেছে ভারত। অপরদিকে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে মাত্র ২ ম্যাচে। পরিসংখ্যান যদিও ভারতের পক্ষেই কথা বলছে, তবে বাংলাদেশ একেবারেই যে হার মানছে না, তার প্রমাণ ২০২৩ সালের ও...

মহানবী (সা.) যেভাবে মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ

    আপডেট: ০৭:৫২, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫     জাওয়াদ মাহবুব  অনলাইন ভার্সন মুহাম্মদ (সা.) এমন একসময় পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন, যখন পৃথিবী ঐশী আলো ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। ফলে পার্থিব জীবনের সব আয়োজন বিদ্যমান থাকলেও সাম্য, মানবিকতা, মনুষ্যত্ব ও কল্যাণকামিতার মতো গুণাবলি হারিয়ে গিয়েছিল। মানুষরূপী মানুষ থাকলেও পৃথিবীতে মনুষ্যত্ব ছিল না, মানুষ মানুষের কাছে নিরাপদ ছিল না। ঐতিহাসিকরা এই সময়কে আইয়ামে জাহিলিয়্যাত বা অন্ধকার যুগ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মহানবী (সা.) তখন মানবজাতির জন্য মহাত্রাতা হিসেবে আগমন করেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি তো আপনাকে বিশ্বজগতের প্রতি শুধু রহমতরূপেই প্রেরণ করেছি।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ১০৭) উল্লিখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেন, শুধু নবী হিসেবে মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনই নয়, বরং সত্ত্বাগতভাবে তিনি নিজেও বিশ্বজগতের জন্য রহমত ছিলেন। রহমত শব্দের আভিধানিক অর্থ দয়া ও অনুগ্রহ। পরিভাষায় রহমত বলা হয়, অন্যের প্রতি অন্তরের এমন মায়া, ভালোবাসা ও ভাব, যা অনুগ্রহ করতে উৎসাহিত করে। সুতরাং নবীজি (সা.)-এর রহমত হওয়ার অর্থ হলো বিশ্বজগতের প্রতি তাঁর কল্যাণকামিতা...