Skip to main content
  বিশ্বজুড়ে ভাইরাল ইংল্যান্ডের এক মসজিদ, কারণটা ব্যতিক্রম   অনলাইন ডেস্ক  অনলাইন ভার্সন  সংগৃহীত ছবি বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে উঠেছে ইংল্যান্ডের ব্র্যাডফোর্ড শহরের একটি মসজিদ। হিটন রোডে অবস্থিত জামিয়া উসমানিয়া মসজিদ আলোচনায় এসেছে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যতিক্রমী এক সামাজিক উদ্যোগের কারণে। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জামাতের পাশাপাশি এই মসজিদে চালু করা হয়েছে প্রবীণ পুরুষদের জন্য পিলাটিস ক্লাস। টিকটক ও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিও ইতিমধ্যে ২০ লাখের বেশি ভিউ পেয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ইতিবাচক মন্তব্যে মসজিদ কর্তৃপক্ষ অভিভূত। অনেকেই বলছেন, একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কীভাবে সামাজিক সুস্থতার কেন্দ্র হতে পারে, ব্র্যাডফোর্ডের এই উদ্যোগ তার উজ্জ্বল উদাহরণ। মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইলিয়াস বিবিসিকে বলেন, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল প্রবীণ পুরুষদের একাকিত্ব দূর করা। তাঁর ভাষায়, মসজিদ কেবল নামাজের জায়গা নয়, এটিকে একটি কমিউনিটি হাবে রূপান্তর করার স্বপ্ন থেকেই এই উদ্যোগ। অনেক বয়স্ক মানুষ সারাদিন ঘরে একা থাকেন, এখানে এসে তাঁরা শরীরচর্চার পাশাপাশি কথ...

 সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫


তিস্তায় চীনা অর্থায়ন এখনো অনিশ্চিত

দুই মাসের বেশি সময় পার হলেও বেইজিং থেকে কোনো জবাব আসেনি
 সূত্র: বিডি প্রতিদিন/শাহেদ আলী ইরশাদ
 প্রিন্ট ভার্সন
তিস্তায় চীনা অর্থায়ন এখনো অনিশ্চিত

বাংলাদেশের বহুল প্রত্যাশিত তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও পুনর্গঠন প্রকল্পের অর্থায়ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। প্রথম ধাপে চীনের কাছে ৫৫ কোটি ডলার চাওয়ার দুই মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি বেইজিং।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, আমরা জুলাই মাসেই প্রকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছি। এরপর একাধিকবার বার্তা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো উত্তর পাইনি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, তিস্তা নদীর বাংলাদেশ অংশে নদী পুনর্গঠন, বাঁধ নির্মাণ, খনন ও ভূমি উন্নয়নের জন্য প্রথম ধাপে প্রয়োজন ৭৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এর মধ্যে ৫৫ কোটি ডলার চাওয়া হয়েছে চীনের কাছ থেকে। পুরো প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৫৭ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি) চীনের কারিগরি সহায়তায় ব্যয় কাঠামো ও কাজের পরিকল্পনা করেছে। তিস্তা নদীর প্রবাহ কমে যাওয়ার মূল কারণ হিসেবে ভারতের উজান অংশে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণকে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এ কারণে ভাটিতে বাংলাদেশের চার জেলার লাখো মানুষ কৃষি, মৎস্য ও জীবিকার সংকটে পড়েছে।

কর্মকর্তারা বলেন, ভারতের উজানে পানির প্রবাহ আটকে দেওয়ায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত। তাই নদীর প্রবাহ পুনরুদ্ধার ছাড়া বিকল্প নেই।

সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে বৈঠকে তিস্তা প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, চীন তিস্তা মাস্টারপ্ল্যানে আগ্রহী। অচিরেই একটি বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশ সফর করবে এবং সরেজমিন পরিদর্শন করবে।

তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, এখন পর্যন্ত চীনের আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। বেইজিং আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না দেওয়া পর্যন্ত বিনিয়োগ নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। বাংলাদেশ প্রথমবার ২০২১ সালের মার্চে চীনের কাছে তিস্তা প্রকল্পে অর্থায়নের অনুরোধ জানায়। দীর্ঘ দুই বছর পর ২০২৩ সালের মার্চে বেইজিং পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ জানিয়ে প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) জমা দিতে বলে। এরই মধ্যে চীনা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার চায়না সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন করেছে। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, প্রকল্পটি ঘিরে ভূরাজনৈতিক প্রভাবও রয়েছে। কারণ তিস্তার উজান অংশ ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে ভারত ও চীন উভয় প্রতিবেশী দেশের স্বার্থ এ প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত। ৪১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীর মধ্যে ৩০৫ কিলোমিটার ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গে এবং ১০৯ কিলোমিটার বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চলে অবস্থিত। এটি সিকিমের বৃহত্তম নদী এবং পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী (গঙ্গার পর)। বাংলাদেশ অংশে এটি লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা হয়ে ফুলছড়ি উপজেলায় যমুনায় মিলিত হয়েছে।

চীনা অর্থায়ন পেলে প্রথম ধাপে জমি পুনরুদ্ধার, বাঁধ নির্মাণ, গার্ড স্পার, নদী খনন, পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন হবে। দ্বিতীয় ধাপে থাকবে নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, বন্যা ব্যবস্থাপনা, নৌপথ উন্নয়ন, টাউনশিপ গড়ে তোলা এবং জীবিকা পুনর্গঠন।

সরকার মনে করছে, চীনের মতো বিশ্বশক্তির সহায়তা ছাড়া এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তবে অর্থায়ন নিয়ে দেরি হওয়ার কারণে প্রকল্প শুরু অনিশ্চয়তার মুখে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তিস্তা আমাদের জীবনের অংশ। এর পুনর্গঠন জরুরি। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীন সহযোগিতার হাত বাড়াবে বলেই আমরা আশাবাদী।

 

Comments

Popular posts from this blog

  রাজধানীতে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় সেই গৃহকর্মী গ্রেফতার   নিজস্ব প্রতিবেদক  অনলাইন ভার্সন  গৃহকর্মী আয়শা / সংগৃহীত ছবি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জোড়াখুনের ঘটনায় জড়িত গৃহকর্মী আয়েশাকে ঝালকাঠি থেকে গ্রেফতার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। বুধবার দুপুরে সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।  এর আগে, সোমবার লায়লা ফিরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজকে (১৫) হত্যা করে পালিয়ে যান কথিত গৃহকর্মী আয়েশা।  এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই নিহত লায়লা ফিরোজের স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে গৃহকর্মীকে অভিযুক্ত করে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।   মামলার বাদী আজিজুল ইসলাম উত্তরার সানবিমস স্কুলের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক। স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে মোহাম্মদপুরের ওই বাসায় প্রায় ১৩ বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। তাদের গ্রামের বাড়ি নাটোরে। নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছিলেন, গৃহকর্মী আয়েশা মাত্র চার দিন আগে কাজ শুরু করেছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সেদিন সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে তিনি বোরকা পরে লিফটে উঠে সপ্তম তলায় যান। পরে সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে মুখে মাস্ক, কাঁধে একটি ব্যাগ এবং...
বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ এশিয়া কাপ ফাইনালের মিশনে আজ ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ   স্পোর্টস ডেস্ক  অনলাইন ভার্সন  ছবি: ক্রিকইনফো এশিয়া কাপের সুপার ফোরে আজ ফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ। দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হলেও, কাগজে-কলমে এবং পরিসংখ্যানে অনেকটাই এগিয়ে আছে টিম ইন্ডিয়া। অতীতের ফলাফল বলছে, এই দ্বৈরথে একতরফা আধিপত্য দেখিয়ে এসেছে ভারত। তবে মাঠের লড়াই যে সব সময় পরিসংখ্যান মেনে চলে না, সেটাও প্রমাণের সুযোগ থাকছে বাংলাদেশের সামনে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এখনও পর্যন্ত ১৭ বার মুখোমুখি হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশ। তার মধ্যে ১৬ বারই জিতেছে ভারত। শুধু একটি ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেয়েছে টাইগাররা। তাও বছর ছয়েক আগে। শেষবার দুই দল টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হয়েছিল ২০২৪ সালে হায়দরাবাদে। সেই ম্যাচে ১৩৩ রানের বিশাল জয় পায় ভারত। এশিয়া কাপে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট মিলিয়ে মোট ১৫ বার মুখোমুখি হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ। এর মধ্যে ১৩ বার জিতেছে ভারত। অপরদিকে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে মাত্র ২ ম্যাচে। পরিসংখ্যান যদিও ভারতের পক্ষেই কথা বলছে, তবে বাংলাদেশ একেবারেই যে হার মানছে না, তার প্রমাণ ২০২৩ সালের ও...

মহানবী (সা.) যেভাবে মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ

    আপডেট: ০৭:৫২, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫     জাওয়াদ মাহবুব  অনলাইন ভার্সন মুহাম্মদ (সা.) এমন একসময় পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন, যখন পৃথিবী ঐশী আলো ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। ফলে পার্থিব জীবনের সব আয়োজন বিদ্যমান থাকলেও সাম্য, মানবিকতা, মনুষ্যত্ব ও কল্যাণকামিতার মতো গুণাবলি হারিয়ে গিয়েছিল। মানুষরূপী মানুষ থাকলেও পৃথিবীতে মনুষ্যত্ব ছিল না, মানুষ মানুষের কাছে নিরাপদ ছিল না। ঐতিহাসিকরা এই সময়কে আইয়ামে জাহিলিয়্যাত বা অন্ধকার যুগ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মহানবী (সা.) তখন মানবজাতির জন্য মহাত্রাতা হিসেবে আগমন করেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি তো আপনাকে বিশ্বজগতের প্রতি শুধু রহমতরূপেই প্রেরণ করেছি।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ১০৭) উল্লিখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেন, শুধু নবী হিসেবে মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনই নয়, বরং সত্ত্বাগতভাবে তিনি নিজেও বিশ্বজগতের জন্য রহমত ছিলেন। রহমত শব্দের আভিধানিক অর্থ দয়া ও অনুগ্রহ। পরিভাষায় রহমত বলা হয়, অন্যের প্রতি অন্তরের এমন মায়া, ভালোবাসা ও ভাব, যা অনুগ্রহ করতে উৎসাহিত করে। সুতরাং নবীজি (সা.)-এর রহমত হওয়ার অর্থ হলো বিশ্বজগতের প্রতি তাঁর কল্যাণকামিতা...