Skip to main content
  বিশ্বজুড়ে ভাইরাল ইংল্যান্ডের এক মসজিদ, কারণটা ব্যতিক্রম   অনলাইন ডেস্ক  অনলাইন ভার্সন  সংগৃহীত ছবি বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে উঠেছে ইংল্যান্ডের ব্র্যাডফোর্ড শহরের একটি মসজিদ। হিটন রোডে অবস্থিত জামিয়া উসমানিয়া মসজিদ আলোচনায় এসেছে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যতিক্রমী এক সামাজিক উদ্যোগের কারণে। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জামাতের পাশাপাশি এই মসজিদে চালু করা হয়েছে প্রবীণ পুরুষদের জন্য পিলাটিস ক্লাস। টিকটক ও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিও ইতিমধ্যে ২০ লাখের বেশি ভিউ পেয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ইতিবাচক মন্তব্যে মসজিদ কর্তৃপক্ষ অভিভূত। অনেকেই বলছেন, একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কীভাবে সামাজিক সুস্থতার কেন্দ্র হতে পারে, ব্র্যাডফোর্ডের এই উদ্যোগ তার উজ্জ্বল উদাহরণ। মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইলিয়াস বিবিসিকে বলেন, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল প্রবীণ পুরুষদের একাকিত্ব দূর করা। তাঁর ভাষায়, মসজিদ কেবল নামাজের জায়গা নয়, এটিকে একটি কমিউনিটি হাবে রূপান্তর করার স্বপ্ন থেকেই এই উদ্যোগ। অনেক বয়স্ক মানুষ সারাদিন ঘরে একা থাকেন, এখানে এসে তাঁরা শরীরচর্চার পাশাপাশি কথ...

 

যুদ্ধ বাড়লে বাড়ে ব্যবসা: এক বছরে ৫.৯% লাফ দিল সামরিক শিল্পখাত

 অনলাইন ডেস্ক
 অনলাইন ভার্সন
যুদ্ধ বাড়লে বাড়ে ব্যবসা: এক বছরে ৫.৯% লাফ দিল সামরিক শিল্পখাত

বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনা অস্ত্রশিল্পে অভূতপূর্ব মুনাফা এনে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআইয়ের) নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শীর্ষ ১০০ সামরিক ও অস্ত্র প্রস্তুতকারী কোম্পানি ২০২৪ সালে মোট ৬৭৮ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরা এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

এসআইপিআরআই জানায়, গাজা ও ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় সামরিক ব্যয় ও অস্ত্র কেনাবেচা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালের তুলনায় অস্ত্র কোম্পানিগুলোর মুনাফা গত বছর ৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে।

সবচেয়ে বেশি লাভ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে এশিয়া-ওশেনিয়া অঞ্চলের কিছু কোম্পানিও ভালো করছে, যার বেশিরভাগই চীনা প্রতিষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্রে লকহিড মার্টিন, নরথ্রপ গ্রুম্যান এবং জেনারেল ডায়নামিক্স সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আয় করেছে। শুধু মার্কিন তালিকার ৩৯ কোম্পানির মধ্যে ৩০টির রাজস্বই বেড়েছে এবং সম্মিলিত আয় ৩৩৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।

তবে এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান, কলাম্বিয়া ও ভার্জিনিয়া–ক্লাস সাবমেরিন এবং সেন্টিনেল আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পে এখনও বিলম্ব ও বাজেট অতিরিক্ত ব্যয়ের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ সময়ই প্রথমবারের মতো স্পেসএক্স প্রবেশ করেছে শীর্ষ সামরিক প্রস্তুতকারকের তালিকায়। তাদের অস্ত্র রাজস্ব ২০২৪ সালে দ্বিগুণের বেশি বেড়ে ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

ইউরোপে রাশিয়াকে বাদ দিয়ে শীর্ষ ১০০ তালিকায় ছিল ২৬টি কোম্পানি, যার মধ্যে ২৩টি বিক্রি বৃদ্ধি করেছে। সম্মিলিত অস্ত্র রাজস্ব ১৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫১ বিলিয়ন ডলারে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো চেকোস্লোভাক গ্রুপ। যারা ইউক্রেনের জন্য গোলাবারুদ তৈরি করে রাজস্ব ১৯৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে, যা শীর্ষ ১০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি।

ইউক্রেনের জেএসসি ইউক্রেনীয় ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি রাজস্ব ৪১ শতাংশ বাড়িয়ে তিন বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ইউরোপীয় অস্ত্র কোম্পানিগুলো রাশিয়ার মোকাবিলায় নতুন উৎপাদন সক্ষমতায় বিনিয়োগ করছে। তবে এসআইপিআরআই সতর্ক করে বলেছে, প্রয়োজনীয় কাঁচামাল- বিশেষত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ চাহিদা, একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। কারণ চীন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করছে।

রাশিয়ার রোস্টেক এবং ইউনাইটেড শিপবিল্ডিং করপোরেশন পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও সম্মিলিত রাজস্ব ২৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৩১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে।

এশিয়া ও ওশেনিয়ার কোম্পানিগুলো মোট ১৩০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব অর্জন করেছে, যদিও আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ কম। এর বড় কারণ চীনের তালিকাভুক্ত আট কোম্পানির সম্মিলিত আয় ১০ শতাংশ কমে যাওয়া। এর মধ্যে নোরিনকোর রাজস্ব ৩১ শতাংশ হ্রাস সবচেয়ে বড় ধাক্কা। অন্যদিকে, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিক্রি বেড়েছে। তাইওয়ান ও উত্তর কোরিয়া ইস্যুকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায়।

তালিকায় থাকা পাঁচটি জাপানি কোম্পানি ৪০ শতাংশ এবং চারটি দক্ষিণ কোরিয়ান কোম্পানি ৩১ শতাংশ রাজস্ব বাড়িয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান হানহা গ্রুপ এক বছরে ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার অর্ধেকের বেশি এসেছে রপ্তানি থেকে।

প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক নয়টি কোম্পানি শীর্ষ ১০০ তালিকায় উঠেছে। তারা সম্মিলিতভাবে ৩১ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব অর্জন করেছে—যা আগের বছরের তুলনায় ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি। সুদানের যুদ্ধে অস্ত্র জোগানোর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আঞ্চলিক হিসাব থেকে বাদ পড়েছে আমিরাতভিত্তিক এজ গ্রুপ—কারণ তাদের ২০২৩ সালের রাজস্ব তথ্য পাওয়া যায়নি। সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিযোগ অস্বীকার করে।

গাজায় অব্যাহত আগ্রাসনের মধ্যে তালিকাভুক্ত তিনটি ইসরায়েলি কোম্পানি এলবিট সিস্টেমস, ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ, রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস। এদের সম্মিলিত রাজস্ব ১৬ শতাংশ বাড়িয়ে ১৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে। শুধু এলবিট সিস্টেমসই আয় করেছে ৬ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার। একই সঙ্গে ইসরায়েলি মানববিহীন আকাশযান ও অ্যান্টি–ড্রোন প্রযুক্তির প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহও বেড়েছে।

তালিকায় থাকা পাঁচটি তুর্কি কোম্পানি রেকর্ড ১০ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব করেছে—যা ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। ড্রোন নির্মাতা বায়কার ২০২৪ সালে ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র রাজস্ব দেখিয়েছে, যার ৯৫ শতাংশ এসেছে রপ্তানি থেকে। তালিকায় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, ভারত, তাইওয়ান, নরওয়ে, কানাডা, স্পেন, পোল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার সামরিক কোম্পানিও রয়েছে।

সোর্স: আল–জাজিরা

Comments

Popular posts from this blog

  রাজধানীতে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় সেই গৃহকর্মী গ্রেফতার   নিজস্ব প্রতিবেদক  অনলাইন ভার্সন  গৃহকর্মী আয়শা / সংগৃহীত ছবি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জোড়াখুনের ঘটনায় জড়িত গৃহকর্মী আয়েশাকে ঝালকাঠি থেকে গ্রেফতার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। বুধবার দুপুরে সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।  এর আগে, সোমবার লায়লা ফিরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজকে (১৫) হত্যা করে পালিয়ে যান কথিত গৃহকর্মী আয়েশা।  এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই নিহত লায়লা ফিরোজের স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে গৃহকর্মীকে অভিযুক্ত করে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।   মামলার বাদী আজিজুল ইসলাম উত্তরার সানবিমস স্কুলের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক। স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে মোহাম্মদপুরের ওই বাসায় প্রায় ১৩ বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। তাদের গ্রামের বাড়ি নাটোরে। নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছিলেন, গৃহকর্মী আয়েশা মাত্র চার দিন আগে কাজ শুরু করেছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সেদিন সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে তিনি বোরকা পরে লিফটে উঠে সপ্তম তলায় যান। পরে সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে মুখে মাস্ক, কাঁধে একটি ব্যাগ এবং...
বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ এশিয়া কাপ ফাইনালের মিশনে আজ ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ   স্পোর্টস ডেস্ক  অনলাইন ভার্সন  ছবি: ক্রিকইনফো এশিয়া কাপের সুপার ফোরে আজ ফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ। দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হলেও, কাগজে-কলমে এবং পরিসংখ্যানে অনেকটাই এগিয়ে আছে টিম ইন্ডিয়া। অতীতের ফলাফল বলছে, এই দ্বৈরথে একতরফা আধিপত্য দেখিয়ে এসেছে ভারত। তবে মাঠের লড়াই যে সব সময় পরিসংখ্যান মেনে চলে না, সেটাও প্রমাণের সুযোগ থাকছে বাংলাদেশের সামনে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এখনও পর্যন্ত ১৭ বার মুখোমুখি হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশ। তার মধ্যে ১৬ বারই জিতেছে ভারত। শুধু একটি ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেয়েছে টাইগাররা। তাও বছর ছয়েক আগে। শেষবার দুই দল টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হয়েছিল ২০২৪ সালে হায়দরাবাদে। সেই ম্যাচে ১৩৩ রানের বিশাল জয় পায় ভারত। এশিয়া কাপে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট মিলিয়ে মোট ১৫ বার মুখোমুখি হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ। এর মধ্যে ১৩ বার জিতেছে ভারত। অপরদিকে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে মাত্র ২ ম্যাচে। পরিসংখ্যান যদিও ভারতের পক্ষেই কথা বলছে, তবে বাংলাদেশ একেবারেই যে হার মানছে না, তার প্রমাণ ২০২৩ সালের ও...

মহানবী (সা.) যেভাবে মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ

    আপডেট: ০৭:৫২, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫     জাওয়াদ মাহবুব  অনলাইন ভার্সন মুহাম্মদ (সা.) এমন একসময় পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন, যখন পৃথিবী ঐশী আলো ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। ফলে পার্থিব জীবনের সব আয়োজন বিদ্যমান থাকলেও সাম্য, মানবিকতা, মনুষ্যত্ব ও কল্যাণকামিতার মতো গুণাবলি হারিয়ে গিয়েছিল। মানুষরূপী মানুষ থাকলেও পৃথিবীতে মনুষ্যত্ব ছিল না, মানুষ মানুষের কাছে নিরাপদ ছিল না। ঐতিহাসিকরা এই সময়কে আইয়ামে জাহিলিয়্যাত বা অন্ধকার যুগ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মহানবী (সা.) তখন মানবজাতির জন্য মহাত্রাতা হিসেবে আগমন করেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি তো আপনাকে বিশ্বজগতের প্রতি শুধু রহমতরূপেই প্রেরণ করেছি।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ১০৭) উল্লিখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেন, শুধু নবী হিসেবে মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনই নয়, বরং সত্ত্বাগতভাবে তিনি নিজেও বিশ্বজগতের জন্য রহমত ছিলেন। রহমত শব্দের আভিধানিক অর্থ দয়া ও অনুগ্রহ। পরিভাষায় রহমত বলা হয়, অন্যের প্রতি অন্তরের এমন মায়া, ভালোবাসা ও ভাব, যা অনুগ্রহ করতে উৎসাহিত করে। সুতরাং নবীজি (সা.)-এর রহমত হওয়ার অর্থ হলো বিশ্বজগতের প্রতি তাঁর কল্যাণকামিতা...