Skip to main content
  বিশ্বজুড়ে ভাইরাল ইংল্যান্ডের এক মসজিদ, কারণটা ব্যতিক্রম   অনলাইন ডেস্ক  অনলাইন ভার্সন  সংগৃহীত ছবি বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে উঠেছে ইংল্যান্ডের ব্র্যাডফোর্ড শহরের একটি মসজিদ। হিটন রোডে অবস্থিত জামিয়া উসমানিয়া মসজিদ আলোচনায় এসেছে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যতিক্রমী এক সামাজিক উদ্যোগের কারণে। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জামাতের পাশাপাশি এই মসজিদে চালু করা হয়েছে প্রবীণ পুরুষদের জন্য পিলাটিস ক্লাস। টিকটক ও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিও ইতিমধ্যে ২০ লাখের বেশি ভিউ পেয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ইতিবাচক মন্তব্যে মসজিদ কর্তৃপক্ষ অভিভূত। অনেকেই বলছেন, একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কীভাবে সামাজিক সুস্থতার কেন্দ্র হতে পারে, ব্র্যাডফোর্ডের এই উদ্যোগ তার উজ্জ্বল উদাহরণ। মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইলিয়াস বিবিসিকে বলেন, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল প্রবীণ পুরুষদের একাকিত্ব দূর করা। তাঁর ভাষায়, মসজিদ কেবল নামাজের জায়গা নয়, এটিকে একটি কমিউনিটি হাবে রূপান্তর করার স্বপ্ন থেকেই এই উদ্যোগ। অনেক বয়স্ক মানুষ সারাদিন ঘরে একা থাকেন, এখানে এসে তাঁরা শরীরচর্চার পাশাপাশি কথ...

 

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উল্টো পথে দেশ : ড. হোসেন জিল্লুর

 অনলাইন ডেস্ক
 অনলাইন ভার্সন
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উল্টো পথে দেশ : ড. হোসেন জিল্লুর

বাংলাদেশ কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিবর্তে উল্টো পথে হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তার মতে, উৎপাদনশীল খাতের সংকোচন, শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা এবং দক্ষতা ও বিপণনের ঘাটতি সামগ্রিকভাবে চাকরির সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। 

রবিবার (৩০ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশানের সিক্স সিজনস হোটেলে ‘বিয়ন্ড জবলেস গ্রোথ : টুওয়ার্ডস অ্যান এমপ্লয়মেন্ট সেন্ট্রেড পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক ফর বাংলাদেশ থ্রু অ্যা পোস্ট-নিওলিবারেল লেন্স’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টেগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‌্যাপিড) এবং ফ্রিডরিশ এবার্ট স্টিফটুং (এফইএস) বাংলাদেশ যৌথভাবে এই আলোচনাসভার আয়োজন করে।

তিনি বলেন, গত এক দশকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক হলেও চাকরির প্রবৃদ্ধি একই হারে বাড়েনি। বিশেষ করে শিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও সেবা খাতে প্রত্যাশিত হারে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়াকে তিনি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। বলেন, অর্থনীতি নিয়ে যেখানে আশাবাদ থাকার কথা, সেখানে তরুণদের মধ্যে চাকরির অনিশ্চয়তা দ্রুত বাড়ছে।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান জানান, দেশের বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত হলেও তাদের আয় স্থবির, কাজের নিরাপত্তা অনিশ্চিত এবং সামাজিক সুরক্ষার সুযোগ সীমিত। প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও অটোমেশন শ্রমবাজারকে পুনর্গঠন করলেও দক্ষতা উন্নয়নে যথার্থ বিনিয়োগ না হওয়ায় কর্মসংস্থানে কাঙ্ক্ষিত গতি ফিরছে না। গ্রামীণ অর্থনীতিতে নন-ফার্ম কর্মকাণ্ড কমে যাওয়া, বিদেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে ধীরগতি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের অনিশ্চয়তাকেও তিনি সামগ্রিক কর্মসংস্থানের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।

কর্মসংস্থানের স্থবিরতা কাটাতে ড. জিল্লুর তিনটি অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে বলেন, উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো ও নীতি-সহায়তা জোরদার করা, বাজারে চাহিদানির্ভর দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা, ক্ষুদ্র ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়ন সহজতর করা এবং উদ্ভাবনী খাতকে প্রণোদনা দেওয়ার মত দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, চাকরির প্রবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে উন্নয়ন কৌশল পুনর্গঠন করা জরুরি। কর্মসংস্থানের গতি না ফিরলে উন্নয়ন টেকসই হবে না।

শ্রমকেন্দ্রিক নীতি জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মি. ম্যাক্স তুনিয়ন বলেন, শ্রম অধিকার শক্তিশালী করা, আঞ্চলিক কর্মসংস্থান কৌশলের সমন্বয়, শিশুযত্ন নীতি উন্নয়ন এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মানসম্মত চাকরি সৃষ্টির বিকল্প নেই।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে ড. সায়েমা হক বিদিশা বলেন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি নির্ভর করে উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও বেসরকারি খাতের চাহিদার সঠিক সমন্বয়ের ওপর। লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা, গ্রামীণ বিনিয়োগ, শ্রমিক অধিকার সুরক্ষা ও ফ্রিল্যান্সিং সহায়তা যুব বেকারত্ব কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. এম এ রাজ্জাক। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধির ধারা তরুণ ও নারীদের জন্য পর্যাপ্ত মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। দক্ষতার অমিল, ব্যাপক অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান, দুর্বল শ্রম অবকাঠামো এবং কর্মসংস্থান জিডিপি প্রবৃদ্ধির বিচ্ছিন্নতা দেশের জনমিতিক সুযোগকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নীতি থাকলেও এগুলো বেশির ভাগই আকাঙ্ক্ষানির্ভর; বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব রয়েছে। তাই শিল্প, বাণিজ্য ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি নতুনভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকে পুনর্নির্দেশ করার আহ্বান জানান তিনি। অন্যদের মধ্যে অর্থনীতিবিদ ড. সায়েমা হক বিদিশাসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

Comments

Popular posts from this blog

  রাজধানীতে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় সেই গৃহকর্মী গ্রেফতার   নিজস্ব প্রতিবেদক  অনলাইন ভার্সন  গৃহকর্মী আয়শা / সংগৃহীত ছবি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জোড়াখুনের ঘটনায় জড়িত গৃহকর্মী আয়েশাকে ঝালকাঠি থেকে গ্রেফতার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। বুধবার দুপুরে সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।  এর আগে, সোমবার লায়লা ফিরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজকে (১৫) হত্যা করে পালিয়ে যান কথিত গৃহকর্মী আয়েশা।  এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই নিহত লায়লা ফিরোজের স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে গৃহকর্মীকে অভিযুক্ত করে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।   মামলার বাদী আজিজুল ইসলাম উত্তরার সানবিমস স্কুলের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক। স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে মোহাম্মদপুরের ওই বাসায় প্রায় ১৩ বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। তাদের গ্রামের বাড়ি নাটোরে। নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছিলেন, গৃহকর্মী আয়েশা মাত্র চার দিন আগে কাজ শুরু করেছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সেদিন সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে তিনি বোরকা পরে লিফটে উঠে সপ্তম তলায় যান। পরে সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে মুখে মাস্ক, কাঁধে একটি ব্যাগ এবং...
বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ এশিয়া কাপ ফাইনালের মিশনে আজ ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ   স্পোর্টস ডেস্ক  অনলাইন ভার্সন  ছবি: ক্রিকইনফো এশিয়া কাপের সুপার ফোরে আজ ফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ। দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হলেও, কাগজে-কলমে এবং পরিসংখ্যানে অনেকটাই এগিয়ে আছে টিম ইন্ডিয়া। অতীতের ফলাফল বলছে, এই দ্বৈরথে একতরফা আধিপত্য দেখিয়ে এসেছে ভারত। তবে মাঠের লড়াই যে সব সময় পরিসংখ্যান মেনে চলে না, সেটাও প্রমাণের সুযোগ থাকছে বাংলাদেশের সামনে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এখনও পর্যন্ত ১৭ বার মুখোমুখি হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশ। তার মধ্যে ১৬ বারই জিতেছে ভারত। শুধু একটি ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেয়েছে টাইগাররা। তাও বছর ছয়েক আগে। শেষবার দুই দল টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হয়েছিল ২০২৪ সালে হায়দরাবাদে। সেই ম্যাচে ১৩৩ রানের বিশাল জয় পায় ভারত। এশিয়া কাপে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট মিলিয়ে মোট ১৫ বার মুখোমুখি হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ। এর মধ্যে ১৩ বার জিতেছে ভারত। অপরদিকে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে মাত্র ২ ম্যাচে। পরিসংখ্যান যদিও ভারতের পক্ষেই কথা বলছে, তবে বাংলাদেশ একেবারেই যে হার মানছে না, তার প্রমাণ ২০২৩ সালের ও...

মহানবী (সা.) যেভাবে মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ

    আপডেট: ০৭:৫২, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫     জাওয়াদ মাহবুব  অনলাইন ভার্সন মুহাম্মদ (সা.) এমন একসময় পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন, যখন পৃথিবী ঐশী আলো ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। ফলে পার্থিব জীবনের সব আয়োজন বিদ্যমান থাকলেও সাম্য, মানবিকতা, মনুষ্যত্ব ও কল্যাণকামিতার মতো গুণাবলি হারিয়ে গিয়েছিল। মানুষরূপী মানুষ থাকলেও পৃথিবীতে মনুষ্যত্ব ছিল না, মানুষ মানুষের কাছে নিরাপদ ছিল না। ঐতিহাসিকরা এই সময়কে আইয়ামে জাহিলিয়্যাত বা অন্ধকার যুগ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মহানবী (সা.) তখন মানবজাতির জন্য মহাত্রাতা হিসেবে আগমন করেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি তো আপনাকে বিশ্বজগতের প্রতি শুধু রহমতরূপেই প্রেরণ করেছি।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ১০৭) উল্লিখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেন, শুধু নবী হিসেবে মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনই নয়, বরং সত্ত্বাগতভাবে তিনি নিজেও বিশ্বজগতের জন্য রহমত ছিলেন। রহমত শব্দের আভিধানিক অর্থ দয়া ও অনুগ্রহ। পরিভাষায় রহমত বলা হয়, অন্যের প্রতি অন্তরের এমন মায়া, ভালোবাসা ও ভাব, যা অনুগ্রহ করতে উৎসাহিত করে। সুতরাং নবীজি (সা.)-এর রহমত হওয়ার অর্থ হলো বিশ্বজগতের প্রতি তাঁর কল্যাণকামিতা...