চীনের প্রাচীন ঝুলন্ত কফিনের রহস্য উন্মোচন

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শত শত বছর ধরে মানুষকে পাহাড়ের খাড়া দেয়ালে কাঠের কফিন ঝুলিয়ে দাফন করা হতো। এই রহস্যময় ‘হ্যাংগিং কফিন’ বা ঝুলন্ত কফিন প্রথা দীর্ঘদিন ধরে বো জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত বলে ধরা হয়। তবে বো জনগোষ্ঠী মিং রাজবংশের (১৩৬৮–১৬৪৪) পর প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে ধারণা ছিল। নতুন গবেষণা এই পুরোনো ধাঁধার বড় অংশ উন্মোচন করেছে।
চাইনিজ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসের গবেষকরা চীনের চারটি ঝুলন্ত কফিন স্থানের ১১ জন প্রাচীন মানুষের জিনোম (জিনগত গঠন) পরীক্ষা করেন। পাশাপাশি থাইল্যান্ডের লগ কফিন সংস্কৃতির চারজনের নমুনা এবং আধুনিক বো জনগোষ্ঠীর ৩০ জনের জিনও বিশ্লেষণ করা হয়।
ফলাফলে দেখা যায়, আজকের বো জনগোষ্ঠীর বড় অংশের পূর্বপুরুষ ছিলেন সেই প্রাচীন ঝুলন্ত কফিন ব্যবহারকারীরা। অর্থাৎ প্রথাটি শুধু সংস্কৃতি নয়, রক্তের সঙ্গেও জড়িত।
গবেষণায় আরও জানা যায়, প্রাচীন ও আধুনিক—উভয় গোষ্ঠীরই জিনগত যোগসূত্র রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উপকূলীয় নবপাশান যুগের জনগণের সঙ্গে। এরা বর্তমান তাই-কাদাই ও অস্ট্রোনেশিয়ান ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর পূর্বপুরুষ।
আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, ১,২০০ বছরেরও বেশি সময় আগে উত্তর-পূর্ব এশিয়া ও হলুদ নদীর কৃষিভিত্তিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঝুলন্ত কফিন ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ দূরত্বের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তাং রাজবংশের সময় এই মিশ্রণ আরও বেড়ে যায়।
গবেষকেরা দেখেছেন, চীন ও থাইল্যান্ডের ঝুলন্ত ও লগ কফিন সম্প্রদায়ের জিনেও মিল রয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয়, এই কফিন প্রথার একটি বিস্তৃত সাংস্কৃতিক ও জিনগত নেটওয়ার্ক ছিল দক্ষিণ চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়ে।
তবে গবেষণায় সীমাবদ্ধতাও আছে। প্রাচীনতর ঝুলন্ত কফিন কেন্দ্র—মাউন্ট উয়ি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপাঞ্চলের তথ্যের অভাবে পুরো ইতিহাস জানা যায়নি।
গবেষকেরা মনে করেন, আরও প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান ও মানবজীবাশ্মের বিশ্লেষণ করলে ঝুলন্ত কাঠের কফিন প্রথার উত্পত্তি ও বিস্তার সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
Comments
Post a Comment