Skip to main content
  বিশ্বজুড়ে ভাইরাল ইংল্যান্ডের এক মসজিদ, কারণটা ব্যতিক্রম   অনলাইন ডেস্ক  অনলাইন ভার্সন  সংগৃহীত ছবি বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে উঠেছে ইংল্যান্ডের ব্র্যাডফোর্ড শহরের একটি মসজিদ। হিটন রোডে অবস্থিত জামিয়া উসমানিয়া মসজিদ আলোচনায় এসেছে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যতিক্রমী এক সামাজিক উদ্যোগের কারণে। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জামাতের পাশাপাশি এই মসজিদে চালু করা হয়েছে প্রবীণ পুরুষদের জন্য পিলাটিস ক্লাস। টিকটক ও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিও ইতিমধ্যে ২০ লাখের বেশি ভিউ পেয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ইতিবাচক মন্তব্যে মসজিদ কর্তৃপক্ষ অভিভূত। অনেকেই বলছেন, একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কীভাবে সামাজিক সুস্থতার কেন্দ্র হতে পারে, ব্র্যাডফোর্ডের এই উদ্যোগ তার উজ্জ্বল উদাহরণ। মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইলিয়াস বিবিসিকে বলেন, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল প্রবীণ পুরুষদের একাকিত্ব দূর করা। তাঁর ভাষায়, মসজিদ কেবল নামাজের জায়গা নয়, এটিকে একটি কমিউনিটি হাবে রূপান্তর করার স্বপ্ন থেকেই এই উদ্যোগ। অনেক বয়স্ক মানুষ সারাদিন ঘরে একা থাকেন, এখানে এসে তাঁরা শরীরচর্চার পাশাপাশি কথ...

 

এবার বিক্ষোভে উত্তাল ফিলিপাইন

 অনলাইন ডেস্ক
 অনলাইন ভার্সন
এবার বিক্ষোভে উত্তাল ফিলিপাইন

সম্প্রতি নেপাল, পূর্ব তিমুরের পর এবার এশিয়ার আরেক দেশ ফিলিপাইনে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারি বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে ‘ট্রিলিয়ন-পেসো কেলেঙ্কারি’ ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের পদত্যাগ দাবিতে রবিবার (৩০ নভেম্বর)  রাজধানী ম্যানিলায় লাখো মানুষের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

কিলুসাং বায়ান কন্ত্রা-কোরাকোট (কেবিকেবিকে) বা পিপলস মুভমেন্ট অ্যাগেইনস্ট করাপশন আয়োজিত এই মিছিলে লুনেটা পার্ক থেকে প্রেসিডেন্টের বাসভবনের দিকে অগ্রসর হন বিক্ষোভকারীরা। অনেকেই মার্কোস ও উপ-রাষ্ট্রপতি সারা দুতের্তের কুমিরসদৃশ একটি প্রতিকৃতি বহন করেন। এই বিক্ষোভে অংশ নেয় ২০ হাজারের বেশি মানুষ, যা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিন লুনেতা ন্যাশনাল পার্ক থেকে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় মালাকানাং প্যালেসের দিকে মিছিল যাত্রা শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা মার্কোস ও ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দোতার্তের কুমিরাকৃতির কুশপুত্তলিকা ‘করাপ্ট-কোডাইল’ বহন করে দুর্নীতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ‘মার্কোস রিজাইন’, ‘জেইল অল দ্য করাপ্ট’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল।

ফিলিপাইনে দুই শক্তিশালী টাইফুনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও শত শত মানুষের মৃত্যুর পর সরকারের বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে ক্ষোভ জোরদার হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ বিপুল অর্থের বড় অংশই মিলেছে রাজনৈতিক মহলের ব্যক্তিগত পকেটে— অনেক প্রকল্প হয় ভুয়া, নয়তো অকার্যকর।

এর দায় এড়াতে না পেরে শীর্ষ পর্যায়ের দুই মন্ত্রী এরই মধ্যে পদত্যাগ করেছেন। একই কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত সাবেক সংসদ সদস্য জাল্ডি কো দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট মার্কোস নিজেই তাকে ১৭০ কোটি ডলার বরাদ্দ দিতে বলেছিলেন সন্দেহজনক ‘ভুতুড়ে প্রকল্পের’ জন্য। তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ১০০ কোটি পেসো নগদ অর্থ ভরা স্যুটকেস প্রেসিডেন্টের বাসভবনে পৌঁছে দিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ‘অনলাইনে যে কেউ যেকোনো দাবি করতে পারে। প্রমাণ থাকলে দেশে এসে তা দেখান।’

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট উত্তরাধিকারসূত্রে ‘দুর্নীতি আর পরিবারতন্ত্রের’ প্রতীক হওয়ায় জনগণের ক্রোধ এখন ব্যক্তিমুখী হয়েছে। ২১ বছর বয়সী ছাত্র ও বিক্ষোভকারী ম্যাট ভিলানুয়েভা বলেন, ওরা আমাদের নির্বোধ ভাবে। ন্যায়বিচার চাইলে আমাদের রাস্তায় নামতেই হবে।

এদিকে ক্যাথলিক চার্চের সমর্থনে মূল ধারার বিরোধী দল ম্যানিলার ঐতিহাসিক ইডিএসএ অ্যাভিনিউতে আলাদা সমাবেশ আয়োজন করে ‘ট্রিলিয়ন পেসো মার্চ’ নামে। তারা প্রথমে শুধু ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দোতার্তের পদত্যাগ দাবি করছে। এ সমাবেশে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ অংশ নেয়।

বিক্ষোভ ঠেকাতে ম্যানিলাজুড়ে ১২ হাজার পুলিশ মোতায়েন করে প্রশাসন। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সব প্রবেশপথ কন্টেইনার ভ্যান ও কাঁটাতার দিয়ে অবরুদ্ধ করা হয়। কেবিকেবিকের মিছিল প্যালেস থেকে মাত্র এক ব্লক দূরে এসে থেমে যায়। সেখানেই কুশপুত্তলিকা ছিঁড়ে ফেলে বিক্ষোভকারীরা।

এই দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে তদন্ত করছে স্বাধীন কমিশন ফর ইনফ্রাস্ট্রাকচার (আইসিআই), যেখানে অন্তত ৯ হাজার ৮৫৫টি বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প অনিয়মের সন্দেহে চিহ্নিত হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দেড় শতাধিক বিলিয়ন পেসো প্রকল্পের টাকা সম্ভবত দুর্নীতিতে হারিয়ে গেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

Comments

Popular posts from this blog

  রাজধানীতে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় সেই গৃহকর্মী গ্রেফতার   নিজস্ব প্রতিবেদক  অনলাইন ভার্সন  গৃহকর্মী আয়শা / সংগৃহীত ছবি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জোড়াখুনের ঘটনায় জড়িত গৃহকর্মী আয়েশাকে ঝালকাঠি থেকে গ্রেফতার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। বুধবার দুপুরে সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।  এর আগে, সোমবার লায়লা ফিরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজকে (১৫) হত্যা করে পালিয়ে যান কথিত গৃহকর্মী আয়েশা।  এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই নিহত লায়লা ফিরোজের স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে গৃহকর্মীকে অভিযুক্ত করে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।   মামলার বাদী আজিজুল ইসলাম উত্তরার সানবিমস স্কুলের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক। স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে মোহাম্মদপুরের ওই বাসায় প্রায় ১৩ বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। তাদের গ্রামের বাড়ি নাটোরে। নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছিলেন, গৃহকর্মী আয়েশা মাত্র চার দিন আগে কাজ শুরু করেছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সেদিন সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে তিনি বোরকা পরে লিফটে উঠে সপ্তম তলায় যান। পরে সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে মুখে মাস্ক, কাঁধে একটি ব্যাগ এবং...
বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ এশিয়া কাপ ফাইনালের মিশনে আজ ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ   স্পোর্টস ডেস্ক  অনলাইন ভার্সন  ছবি: ক্রিকইনফো এশিয়া কাপের সুপার ফোরে আজ ফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ। দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হলেও, কাগজে-কলমে এবং পরিসংখ্যানে অনেকটাই এগিয়ে আছে টিম ইন্ডিয়া। অতীতের ফলাফল বলছে, এই দ্বৈরথে একতরফা আধিপত্য দেখিয়ে এসেছে ভারত। তবে মাঠের লড়াই যে সব সময় পরিসংখ্যান মেনে চলে না, সেটাও প্রমাণের সুযোগ থাকছে বাংলাদেশের সামনে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এখনও পর্যন্ত ১৭ বার মুখোমুখি হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশ। তার মধ্যে ১৬ বারই জিতেছে ভারত। শুধু একটি ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেয়েছে টাইগাররা। তাও বছর ছয়েক আগে। শেষবার দুই দল টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হয়েছিল ২০২৪ সালে হায়দরাবাদে। সেই ম্যাচে ১৩৩ রানের বিশাল জয় পায় ভারত। এশিয়া কাপে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট মিলিয়ে মোট ১৫ বার মুখোমুখি হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ। এর মধ্যে ১৩ বার জিতেছে ভারত। অপরদিকে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে মাত্র ২ ম্যাচে। পরিসংখ্যান যদিও ভারতের পক্ষেই কথা বলছে, তবে বাংলাদেশ একেবারেই যে হার মানছে না, তার প্রমাণ ২০২৩ সালের ও...

মহানবী (সা.) যেভাবে মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ

    আপডেট: ০৭:৫২, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫     জাওয়াদ মাহবুব  অনলাইন ভার্সন মুহাম্মদ (সা.) এমন একসময় পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন, যখন পৃথিবী ঐশী আলো ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। ফলে পার্থিব জীবনের সব আয়োজন বিদ্যমান থাকলেও সাম্য, মানবিকতা, মনুষ্যত্ব ও কল্যাণকামিতার মতো গুণাবলি হারিয়ে গিয়েছিল। মানুষরূপী মানুষ থাকলেও পৃথিবীতে মনুষ্যত্ব ছিল না, মানুষ মানুষের কাছে নিরাপদ ছিল না। ঐতিহাসিকরা এই সময়কে আইয়ামে জাহিলিয়্যাত বা অন্ধকার যুগ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মহানবী (সা.) তখন মানবজাতির জন্য মহাত্রাতা হিসেবে আগমন করেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি তো আপনাকে বিশ্বজগতের প্রতি শুধু রহমতরূপেই প্রেরণ করেছি।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ১০৭) উল্লিখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেন, শুধু নবী হিসেবে মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনই নয়, বরং সত্ত্বাগতভাবে তিনি নিজেও বিশ্বজগতের জন্য রহমত ছিলেন। রহমত শব্দের আভিধানিক অর্থ দয়া ও অনুগ্রহ। পরিভাষায় রহমত বলা হয়, অন্যের প্রতি অন্তরের এমন মায়া, ভালোবাসা ও ভাব, যা অনুগ্রহ করতে উৎসাহিত করে। সুতরাং নবীজি (সা.)-এর রহমত হওয়ার অর্থ হলো বিশ্বজগতের প্রতি তাঁর কল্যাণকামিতা...